সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয় তিন পুলিশ

Print Friendly

গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লীতে আগুন লাগানোর ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য ও দুইজন (ডিবি) গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যসহ মোট তিনজন জড়িত। এ সংক্রান্ত একটি বিচারিক প্রতিবেদন রোববার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করা হয়। সোমবার এ তথ্য জানা যায়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মূল প্রতিবেদন ৬৫ পৃষ্ঠার। এছাড়া সাক্ষীদের জবানবন্দি ও অনুসন্ধান প্রতিবেদন এক হাজার পৃষ্ঠার। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা এই প্রতিবেদনের প্রাপ্তি স্বীকারের এক পৃষ্ঠার একটি অনুলিপি পেয়েছি।

আদালত সূত্রে আরো জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে রোববার সন্ধ্যায় রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলামের কাছে এই রিপোর্ট দাখিল করা হয়। এ বিষয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে নির্ধারিত দিনে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয়দের সঙ্গে দুই পুলিশ সদস্য ও একজন ডিবির পুলিশ সদস্য সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনায় জড়িত রয়েছে। তবে, ওই তিন পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করা যায়নি বলেও জানানো হয় ওই রিপোর্টে। কারণ, ওইদিন যে সকল পুলিশ সদস্য ডিউটি (দ্বায়িত্ব পালন) করেছিলেন তাদের তালিকা দেয়া হয়নি।

এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনায় পুলিশ জড়িত কী না সে বিষয়ে তদন্তের জন্য জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। পাশাপাশি সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহার দু’টি সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের ব্যবস্থা করতে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে নির্দেশ দেয়া হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট সামিউল আলম সরকার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

আইনজীবী সামিউল আলম সরকার জানান, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হয়। এটা নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদপত্রেও লেখালেখি হয়। সেই ভিডিও ফুটেজ আদালতে দাখিল করলে উপরোক্ত আদেশ আসে।

এর আগে সাঁওতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা পৃথক রিটের শুনানি নিয়ে সাঁওতালদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা নিশ্চিত করতে ও ধান কাটার সুযোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতালের মৃত্যু হয়। পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।