অভিজ্ঞ কাউকে সিইসি হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ জেপির

Print Friendly

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সোমবার নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান সংলাপে জাতীয় পার্টির (জেপি) সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এ কথা বলেন। জেপি চেয়ারম্যান, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে যায়।

সংলাপে জেপি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে ধাপে ধাপে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রস্তাব দেয়া হয়। জাতীয় পার্টি জেপির পক্ষ থেকে বলা হয়, নবগঠিত কমিশনে সাধারণত সবাই নতুন থাকেন, যাদের নির্বাচনের বিষয়ে তেমন পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে না।

সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) পুনরায় সিইসি এবং কমিশনারদের নতুন করে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া যায় না। সেজন্য পুরনো কোনো অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কমিশনারকে সিইসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া যায় কি-না, তা বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নিজ বিচার বিবেচনায় বিভিন্ন বিভাগ থেকে অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন, যেখানে নারী প্রতিনিধিত্বও থাকবে, এমন প্রস্তাবও দিয়েছে জাতীয় পার্টি- জেপি।

প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন, জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহিম, শাহ রফিকুল বারী চৌধুরী, এএইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ, মফিজুল হক বেবু, এজাজ আহমেদ মুক্তা, এটিএম আমিনুল ইসলাম পিন্টু, রুহুল আমিন এমপি, শেখ জয়নাল আবেদীন ও নাজমুন্নাহার বেবী, নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকী, ভাইস-চেয়ারম্যান আজিজ বাঙ্গাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দফতর সম্পাদক এম. সালাহ উদ্দিন আহমেদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কায়ের সিদ্দিকী আবু।

প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের জানান, ‘আলোচনায় রাষ্ট্রপতি বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা অপরিহার্য। তিনি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরমত সহিষ্ণুতার সংষ্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান’।

প্রেস সচিব বলেন, জেপির প্রতিনিধি দল নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য নির্বাচনের সময় স্থানীয়দের নির্বাচনী দায়িত্ব না দিয়ে নির্বাচনী এলাকার বাইরে থেকে নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তাব দেন।

বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাংবাদিকদের বলেন ‘একটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে নানা বাধা রয়েছে।এবার ইউনিয়ন পরিষদ ও সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনেও টাকা-পয়সার কথা উঠেছে।এগুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নিজেও সাতবার নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হয়েছেন, কাজেই নির্বাচনের বিষয়ে বর্তমান রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত অভিজ্ঞ, আমাদেরও নির্বাচনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে নানা বাধা আছে। এগুলো একদিনে সমাধান হবে না, পর্যায়ক্রমে নিরসন করতে হবে’।

জেপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ নতুন প্রজন্ম। তারা রাজনৈতিক বিভাজনের ইতিহাস সম্পর্কে তেমন জানে না। কিন্তু এখন শিক্ষার হার বাড়ছে, মানুষ উচ্চ শিক্ষিত হচ্ছে, বিদেশ থেকেও উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে আসছে। সে কারণে আমরা আশাবাদী যে, আগামীতে হয়তো এমন রাজনৈতিক বিভাজন থাকবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত অভিজ্ঞ একজন মানুষ, তিনি তার বিচার বিবেচনা দিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা সরকারি দল, বিরোধী দল, সংসদের বাইরের দলগুলোসহ আমরা সবাই মেনে নেব। না মানলে নির্বাচন হবে কীভাবে!

জাতীয় পার্টি জেপির প্রতিনিধি দলে থাকা দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম জানান, বৈঠকে জেপির পক্ষ থেকে নির্বাচনী পরিবেশ এবং ভোটের দিনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে, মানুষ যেন নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে এসে স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে আবার নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে, সে রকম পরিবেশ নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে জেপি।