কানাডায় বাঙালি লেখক সম্মেলন

Print Friendly

কানাডার টরন্টো এবং পাশ্ববর্তী শহরগুলোর লেখক এবং সাহিত্যপ্রেমীদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হল ‘বাঙালি লেখক সম্মেলন’। ড. রাখাল সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে ছিলেন টরন্টোর পোয়েট লরিয়েট অ্যান মাইকেলস, মুক্তচিন্তক আকবর হোসেন, কবি অশোক চক্রবর্তী এবং টরন্টোর ইস্ট অ্যান্ড আর্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিন্ডি রোজবুম।

বেঙ্গলি লিটারারি রিসোর্স সেন্টারের (বিএলআরসি) এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
অ্যান মাইকেলস বলেন, টরন্টো শহরের ১৫০টি ভাষার মধ্যে বাংলা অন্যতম, যা সামাজিক সংহতি এবং সাংস্কৃতিক বহুমুখীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাহিত্য আমাদের আশা-ভরসা, ভাষা আমাদের শক্তি। ভাষা এবং সাহিত্য মিলে একটি সৃজনশীল সমাজ গঠনে সহায়তা করে, যে সাহিত্য আবার সেই সমাজ থেকে সৃষ্টি হয়। আমাদের প্রত্যাশিত সমাজে লেখকদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিএলআরসি-র উদ্যোগের প্রশংসা করে অ্যান মাইকেলস বলেন, এ ধরনের চমকপ্রদ উদ্যোগ আগে কখনো হয়নি। এই আয়োজন আমাদের শহরকে আরো সৃষ্টিশীল ও স্পন্দনময় করে তুলবে।

রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী নন্দিতা গোমসের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ‘বিএলআরসির সাহিত্য পত্রিকা’র উদ্বোধনী সংখ্যার উন্মোচন করা হয়। এতে কানাডাবাসী ৬৭ জন বাঙালি লেখকের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় রচিত গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ ও অন্যান্য লেখা ছাপানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে পেন কানাডার সভাপতি র‌্যান্ডি বয়াগোডার অনুপস্থিতিতে তার পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তা পাঠ করেন সূচনা দাস বাঁধন।

উদ্বোধনী পর্বে বিএলআরসির নির্বাহী পরিচালক এবং পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সুব্রত কুমার দাস সংগঠনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি বছর টরন্টোতে বাঙালি লেখক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং সম্মেলন উপলক্ষে পত্রিকাটির নতুন সংখ্যা প্রকাশিত হবে। কানাডাবাসী সকল বাঙালি লেখককে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে লেখা দেবার জন্যে অনুরোধ রইল।

উদ্বোধন ছাড়াও অনুষ্ঠানটি তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। পর্ব তিনটি পরিচালনা করেন চয়ন দাস, শেখর গোমেজ ও রেজা অনিরূদ্ধ। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী লেখকদের মধ্যে ছিলেন আকবর হোসেন, ফরিদ আহমেদ, মামুনুর রশীদ, হাসান মাহমুদ, শুজা রশীদ, সখা নির্বাণা, সব্যসাচী নাগ, রোকসানা লেইস এবং সুজিত কুসুম পাল।

নানা প্রশ্নের মাধ্যমে কথোপকথন চলে লেখকদের সঙ্গে। আলোচনার বিষয়ের মধ্যে ছিল প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি, প্রবাসে বসবাস করে বাংলা ভাষায় লেখালেখি করার সীমাবদ্ধতা, লেখকদের অনুপ্রেরণার উৎস ইত্যাদি।

স্বরচিত লেখা থেকে পাঠ পর্বে অংশ নেন অখিল সাহা, ঋতুশ্রী ঘোষ, জামানা হাসিনা, জাহানারা বুলা, ননীগোপাল দেবনাথ, মানজু মান আরা, মেহরাব রহমান, রোজানা নাসরিন, যুথিকা বড়ুয়া, রেজা সাত্তার এবং সুরাইয়া কিবরিয়া উর্মী।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, প্রবাসী বাঙ্গালি লেখকদের ভাবনা ও রচনা কানাডার বাঙালি-অবাঙালি কমিউনিটির পাঠকদের কাছে পৌঁছনোর উদ্দেশ্যেই বিএলআরসির প্রতিষ্ঠা।