তাভেলা হত্যায় বিএনপি নেতাসহ সাত আসামীর বিচার শুরু

Print Friendly

ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজার (৫১) হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুমসহ সাত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) এ অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল বলেন, এ মামলায় সাত আসামির মধ্যে পাঁচজন কারাগারে আছেন। বাকি দুই আসামি পলাতক।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন বিএনপি নেতা কাইয়ুম, তার ভাই আবদুল মতিন, তামজিদ আহমেদ ওরফে রুবেল, রাসেল চৌধুরী, মিনহাজুল আরেফিন ওরফে ভাগনে রাসেল ও শাখাওয়াত হোসেন।

অভিযোগ গঠনের সময় কাইয়ুমের ভাই মতিনসহ পাঁচ জনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে এ অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযুক্ত বাকি দুইজন পলাতক রয়েছেন।

গত ২৮ জুন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক গোলাম রাব্বানী।

সাত আসামির মধ্যে তামজিদ, রাসেল চৌধুরী, মিনহাজুল ও শাখাওয়াত ইতিমধ্যেই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মতিন ও এই চারজন কারাগারে আছেন। কাইয়ুম ও ভাঙারি সোহেল পলাতক। আদালত এ মামলায় বিএনপি নেতা কাইয়ুম ও সোহেলকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশান এলাকায় সিজার তাভেলাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর ইসলামিক স্টেট (আইএস) দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় বলে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এক ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়।

পরে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল একজন শ্বেতাঙ্গকে হত্যা করে দেশ-বিদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এই পরিকল্পনা করা হয়। ভাঙাড়ি সোহেলের কাছ থেকে পিস্তল ভাড়া নিয়ে খুনিরা সিজার তাভেলাকে হত্যা করে।

মতিনের নির্দেশে ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শাখাওয়াতের মোটরসাইকেল নিয়ে মিনহাজুল, তামজিদ ও রাসেল চৌধুরী গুলশান ২-এর ৯০ নম্বর সড়কে যান। ওই সড়কের গভর্নর হাউসের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে ফুটপাতে নিরিবিলি ও অন্ধকার স্থানে তামজিদ গুলি করে সিজার তাবেলাকে হত্যা করেন। তাকে সহায়তা করেন রাসেল চৌধুরী ও মিনহাজুল।