‘আমার টেস্ট অভিষেক হলে যেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই হয়’

Print Friendly

এই বছরের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছিলো। আট মাস পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক। তবে টেস্ট দলে ডাক পেতে কয়েক মাস নয়, মাত্র কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে।ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৮ অক্টোবর থেকে মিরপুরে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ দলে নেয়া হয়েছে ডানহাতি এই তরুণ ব্যাটসম্যানকে।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে মোসাদ্দেক রীতিমতো তারকা। প্রথম শ্রেণি কিংবা লিস্ট ‘এ’ ফরম্যাট- ঘরোয়া ক্রিকেটে তার ব্যাট যেন খোলা তলোয়ার। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দারুণ সফল ২০ বয়সী মোসাদ্দেক। ১৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে সাত সেঞ্চুরি ও ছয় হাফ সেঞ্চুরিসহ ৭০.৮৯ গড়ে করেছেন ১৯৮৫ রান।

এরমধ্যে তিনটিই ডাবল সেঞ্চুরি। যা গত মৌসুমেই করেছেন মোসাদ্দেক। আবার বল হাতেও দেখাতে পারেন স্পিন ঘূর্ণি। এবার তার সামনে সাদা পোশাকে খেলার সুযোগ। স্বপ্নের টেস্ট ফরম্যাটে খেলার ডাক, তার ওপর আবার প্রতিপক্ষ ক্রিকেটের জনক দেশ ইংল্যান্ড- সব মিলিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত ডানহাতি এই অলরাউন্ডার। টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার পর অনেক কিছু নিয়েই প্রিয়.কম এর সাথে কথা বললেন মোসাদ্দেক-

– টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে অভিষেক তো হয়ে গেছে। এবার টেস্ট দলেও ডাক পেলেন। কেমন অনুভূতি কাজ করছে?

মোসাদ্দেক হোসেন: টেস্ট তো আসলে স্বপ্নের মতো ব্যাপার। স্বাভাবিকভাবে অনভূতিটা অন্যরকম। টেস্ট দলে ডাক পেয়ে বেশ ভালা লাগছে।

– ইংল্যান্ডের সাথে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ ভালোই লড়েছে। দ্বিতীয় টেস্টেও ভালো ক্রিকেটের দিকে নজর থাকবে। বিশেষ করে যারা নতুন দলে ঢুকবেন, তাদের ওপর একটা চাপ থাকতে পারে। কিভাবে নিচ্ছেনে এই চ্যালেঞ্জ?

মোসাদ্দেক হোসেন: আসলে দ্বিতীয় টেস্টে আমি যদি সেরা একাদশে থাকি…। অবস্থাটা তো এমন নাও হতে পারে আগের ম্যাচে যেমন ছিলো। এটা আসলে নির্ভর করছে অবস্থার ওপর। এখন যে প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের ক্রিকেটে, সব ফরম্যাটেই বাংলাদেশে ভালো খেলছে। এই অবস্থায় দলে সুযোগ পাওয়াটাই চ্যালেঞ্জিং। তো আমার মনেহয় আমি এখানে খেললে আমার সেরা পারফরম্যান্স দিয়েই খেলতে হবে। অবশ্যই ভালো খেলতে হবে। এখানে খারাপ খেলার কোনো সুযোগ নেই আপাতত। খারাপ খেলে দলে থাকার ওই সুযোগটা এখন আর নেই। এখানে যারা দলে আসছে সবাই পারফর্ম করছে আসছে এবং দলে ঢুকেও পারফর্ম করতে হচ্ছে। পারফর্ম না করলে এমনিতেই দল থেকে বাদ হয়ে যাচ্ছে। তো এটাই স্বাভাবিক যে আমি খেললেও আমাকে ভালো খেলতে হবে।

– ক্রিকেটের জনক দেশ ইংল্যান্ড। তাদের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা। কতোটা রোমাঞ্চিত?

মোসাদ্দেক হোসেন: একে তো টেস্ট হচ্ছে স্বপ্নের মতো একটা ব্যাপার, আমার মনেহয় একজন খেলোয়াড় তখনই পরিপূর্ণ শান্তি পায় যখন সে টেস্ট খেলে। তারপর আবার ইংল্যান্ডের মতো একটা দল, যারা ক্রিকেট আবিষ্কার করেছে। সব মিলিয়ে আমি মনেপ্রাণে চাইবো আমার টেস্ট অভিষেক হলে যেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই হয়।

– ইংল্যান্ডের মতো বড় দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হতে পারে। কোনো পরিকল্পনা সাজিয়েছেন?

মোসাদ্দেক হোসেন: আমার মনে হয় এই মৌসুমে সবকিছু মিলিয়ে আল্লাহর রহমতে আমার সবকিছু খুব ভালো যাচ্ছে। এই অবস্থায় আমি মনে করি যেভাবে চলছে সেভাবেই চলতে দেয়া ভালো। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। এটাই আমার লক্ষ্য থাকবে।

– অনেকেরই ধারণা ছিলো প্রথম টেস্টের দলে আপনি থাকবেন। দলে না থাকায় ওই সময় অবাক হয়েছিলেন কি না? কিংবা কোনো আফসোস কাজ করেছে?

মোসাদ্দেক হোসেন: এটা আমি আসলে ওইরকমভাবে চিন্তা করিনি যে একটা দলের হয়ে কয়েকটা ওয়ানডে ভালো খেলার পর টেস্ট স্কোয়াডে থাকবো। একটা সময় মনে হয়েছিলো হয়তো থাকতে পারি টেস্ট দলে। তবে আমি নিশ্চিত ছিলাম না থাকার ব্যাপারে। আমি ফিফটি-ফিফটি ছিলাম। তো টেস্ট দলে না থাকায় আমি আসলে অবাক হইনি। আমার কাছে খুব স্বাভাবিকই মনে হয়েছে।

– টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার পর মেহেদি হাসান মিরাজ বলেছিলেন টেস্ট দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করার ইচ্ছা ছিলো। টেস্ট নিয়ে আপনার এমন কোনো পরিকল্পনা ছিলো?

মোসাদ্দেক হোসেন: আমি আসলে সব সময়ই স্বপ্ন দেখতাম আমি টেস্ট ক্রিকেটার হবো। টেস্ট ক্রিকেটার বলতে পরিপূর্ণ ক্রিকেটার যাকে বলে। লক্ষ্য ছিলো টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে, টেস্ট- অর্থাৎ সব ফরম্যাটেই আমি খেলবো। টেস্ট নিয়ে আলাদা ওইরকম কোনো পরিকল্পনা ছিলো না। তবে আমি চাচ্ছিলাম আমার অভিষেক ওয়ানডে দিয়ে হোক। কারণ আমার সবচেয়ে পছন্দের ফরম্যাট ওয়ানডে। ওয়ানডেতে অভিষেকের পর আমি টেস্ট নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেছি।