১৪৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সিটিসেল

Print Friendly

কোম্পানি চালু রাখতে মরিয়া সিটিসেল দীর্ঘদিনের বকেয়া অর্থের মধ্যে ১৪৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। দেশে সেবা অব্যাহত রাখতে লাইসেন্স বাঁচাতে অপারেটরটি শেষ সময়ে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে।

(প্রিয় টেক) কোম্পানি চালু রাখতে মরিয়া সিটিসেল দীর্ঘদিনের বকেয়া অর্থের মধ্যে ১৪৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। দেশে সেবা অব্যাহত রাখতে লাইসেন্স বাঁচাতে অপারেটরটি শেষ সময়ে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসিকে আজ বুধবার এ অর্থের চেক দিয়েছে লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা মোবাইল ফোন অপারেটরটি। এর মধ্যে বকেয়া হিসেবে ১৩০ কোটি টাকা ও বাকি ১৪ টাকা কর হিসেবে জমা করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে এরপরও ধুকতে থাকা দেশের সবচেয়ে পুরাতন অপারেটরটি সেবা অব্যাহত রাখার বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি কমিশনের কাছ থেকে। আদালতের নির্দেশ মেনে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে বকেয়ার একটি বড় অংশ জমা দিলেও লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া স্থগিত করা কিংবা পাওনার বাকি অর্থ নিয়ে বিটিআরসি কোনো আলোচনাও করতে সম্মত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে লাইসেন্স বাতিলের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা হলে সিটিসেল কর্মকর্তারা আবারও আদালতে যাওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিটিআরসি বকেয়ার প্রথম কিস্তি পরিশোধের পরও বিষয়েটিকে ইতিবাচকভাবে না নিলে তারা শেষ আশ্রয় হিসেবে আদালতে যাবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এর আগে দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ না করায় সরকার লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করলে আদালতে যায় সিটিসেল। কয়েক দফা শুনানি শেষে আদালত ১৯ অক্টোবরের মধ্যে মোট পাওনার দুই তৃতীয়াংশ বিটিআরসিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।সব মিলে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম এ মোবাইল অপারেটরটের কাছে ৪৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে কমিশনের। যদিও সিটিসেল বলছে বকেয়ার পরিমান দুইশ’ কোটি টাকার বেশি হবে না।

অপারেটরটি বলছে, ২০১১ সালে লাইসেন্স অনুমোদনের সময় থেকেই কখনো তাদের নামে বরাদ্দকরা স্পেকট্রাম পায়নি তারা। সে কারণেই বিটিআরসি’র করা হিসেবের তুলনায় তাদের প্রকৃত পাওনা অনেক কম হবে। সিটিসেল বলছে, তাদের নামে দশ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ থাকলেও তারা ঢাকার বাইরে পেয়েছেন মাত্র ৬ দশমিক ৩ এবং ঢাকার মধ্যে ৮ দশমিক ৮ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম। তাদের হিসেবে বিটিআরসি স্পেকট্রাম বাবদ আর কোনো টাকাই পাবে না তাদের কাছে। অথচ বিটিআরসি’র হিসেব বলছে, স্পেকট্রাম ফি বাবদ তাদের পাওনা ২২৯ কোটি টাকা।

অপারেটরটির কাছে বিভিন্ন খাতে বিপুল পাওনা দাবি করে গত ৩১ জুলাই বিটিআরসি প্রথমে ১৬ আগস্টের মধ্যে সিটিসেলের গ্রাহকদেরকে অপারেটর বদল করার অনুরোধ জানায়। পরে সরকার আরও সাত দিন সময় বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে কেন লাইসেন্স বাতিল করা হবে না তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এর মধ্যে সিটিসেল উচ্চ আদালতে গেলে দুই দিনের শুনানির পর দুই কিস্তিতে টাকা পরিশোধের নির্দেশনা দেন বিচারকরা। সূত্র জানায়, বিটিআরসির বাইরেও অপারেটরটির সবচেয়ে বড় দেনা রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকে। এর পরিমান তিন হাজার কোটি টাকার বেশি।

১৯৮৯ সালে দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্স পেয়ে সিটিসেল ১৯৯৩ সাল থেকে সেবা দিতে শুরু করে। বর্তমানে এ অপারেটরের ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুরের টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা কোম্পানি সিংটেল। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খানের প্যাসিফিক মোটর্সের রয়েছে ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার। এ ছাড়া ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ফার ইস্ট টেলিকমের হাতে। সেটিও আসলে সাবেক ওই মন্ত্রীরই আরেকটি কোম্পানি।