সাইবার সিকিউরিটি সক্ষমতা বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

Print Friendly

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি ডিজিটাল হুমকিও সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এ খাতে ডিজিটাল নিরাপত্তায় সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। জনসম্পদ তৈরি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে।

বুধবার বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে এ মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। মেলার প্রতিপাদ্য ‘ননস্টপ বাংলাদেশ’।

মেলার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণকে পরিপূর্ণ ডিজিটাল সেবা এনে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত বিকাশের বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করে গেছে আওয়ামী লীগ সরকার। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরও আওয়ামী লীগ সরকার একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে’।

তিনি বলেন, দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি-২০১৬ প্রণয়ন করতে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিলও প্রতিষ্ঠা করা হবে। ডিজিটালাইজেশন যাতে দেশের জনগণের জন্য ক্ষতিকর না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, তথ্য প্রযুক্তিতে তার শিক্ষক তার ছেলে ও তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। জাতিসংঘে আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জনে মা হিসেবে জয়ের কৃতিত্বে আমি গর্বিত। গতরাতেও আমি তার কাছ থেকে কিছু বিষয় শিখেছি। প্রতিনিয়তই শিখছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচির পরিচালক কবীর বিন আনোয়ার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার প্রমুখ।

ডিজিটাল বিষয়ক নতুনত্ব ও অভিনবত্ব বিষয়ে ধারণা ও জ্ঞান বিনিময়ের জন্য যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করেছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম।

প্রযুক্তি সেবা ও সফটওয়্যার রফতানি করে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ আয় করে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলার ও ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালে ১০০ কোটি এবং ২০২১ সালে ৫০০ কোটি ডলারের সফটওয়্যার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড প্রদর্শনীর সেরা আকর্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে সফটওয়্যার প্রদর্শনী। এটা এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যেখানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য এবং সেবা দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শিত হবে। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে আইটি ক্যারিয়ার বিষয়ক সম্মেলনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো উন্নয়ন সহযোগিদের নিয়ে থাকবে ডেভেলপার সম্মেলন।

মেলায় বিখ্যাত সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট, জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ একসেন্সার, বিশ্বব্যাংক, জেডটিই, হুয়াওয়েসহ খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন বিদেশি বক্তাসহ দুই শতাধিক বক্তা ১৮টি সেশনে অংশ নেবেন। এছাড়া নেপাল, ভুটান, সৌদি আরবসহ ৭টি দেশের ৭ জন মন্ত্রী এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে অংশ নেবেন।

ই-কমার্স এ বছরের প্রদর্শনীর সেরা আকর্ষণ। বিশ্বায়নের ফলে ব্যবসার এই ধরনটি বর্তমানে অনেক জনপ্রিয়। বাংলাদেশও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ই-কমার্সে প্রবেশ করেছে। ছোট থেকে বড় সব প্রতিষ্ঠানই এখন এই দিকে ঝুঁকছে। প্রদর্শনীতে এ বছর ই-কমার্সের ১১টি স্টল রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন এবং ৪টি প্যাভিলিয়ন।

সরকার-ব্যক্তিপর্যায়ের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক স্থাপন করাই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ৪০টি মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে কি কি সেবা দিচ্ছে তার আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হবে এখানে। এতে শীর্ষস্থানীয় শতাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের ডিজিটাল কার্যক্রম তুলে ধরবে।

এছাড়া সফটওয়ার শো-কেসিং, ই-গভর্নেন্স এক্সপোজিসন, মোবাইল ইনোভেশন, ই-কমার্স এক্সপো, স্টার্টআপ জোন ছাড়াও থাকবে আইটি সংশ্লিষ্ট ১২টি সেমিনার। আয়োজন করা হবে ডেভেলপমেন্ট পার্টনার্স কনফারেন্স, আইসিটি এডুকেশন সম্মেলন। প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকবে কালচারাল প্রোগ্রাম।

ধারণা করা হচ্ছে, তিন দিনে ৫ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হবে আইসিসিবিতে। ১৯ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৬’। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। শুধু তাই নয়, আগত দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে মেলার প্রবেশ করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে www.digitalworld.org.bd ওয়েবসাইটে।