শ্রম আদালতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ‘১০ মামলা’

Print Friendly

বকেয়া পরিশোধ না করার অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার শ্রম আদালতে ১০টি মামলা দায়ের করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান ১০ জন কর্মচারী। ওই কর্মীদের আইনজীবী জানিয়েছেন, কয়েক মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধ না করায় রাজধানী ঢাকার শ্রম আদালতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

তিন নম্বর শ্রম আদালতের বিচারক সুলতান মাহমুদের আদালতে এসব মামলা করা হয়। আগামী মাসে এ বিষয়ে জবাব দেয়ার জন্য বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হবে। মামলার বিবাদীরা হলেন, গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান ও এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের সেরেস্তা সহকারী জামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করায় আদালত থেকে বিবাদীদের কাছে সমন পাঠানো হবে। তবে এখনো মামলার তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। এ ছাড়া ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে কয়েক মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে বলে শ্রম আইনে পরিশোধের জন্য মামলা করা হয়েছে।

শ্রম আদালতের শেরেস্তাদার আরও জানান— গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক সহকারী অফিসার সজিবুর রহমান, ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান, গুলশান আহমেদ ও সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।

উল্লখ্য, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণ টেলিফোনে এক তৃতীয়াংশ শেয়ার রয়েছে গ্রামীণ টেলিকমের। এই প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কর্মীদের মাঝে বণ্টন করে দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা দেয়া হয়নি।

মামলার আরজি থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোনে এক তৃতীয়াংশ শেয়ার রয়েছে গ্রামীণ টেলিকমের। এই প্রতিষ্ঠানের মুনাফাকর্মীদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। সে কারণে এ মামলাটি করা হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বাদীদের আইনজীবী জাফরুল হাসান বলেন, ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ টেলিকমের মূনাফা হয়েছে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এই মূনাফা কর্মীদের পরিশোধ করা হয়নি।

গত দশকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মূনাফা ২১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১০৮ কোটি টাকা কর্মী ও সরকারকে দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই অর্থের ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান কর্মীদেরকে পরিশোধ ও ১০ শতাংশ সরকার এবং ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ ফান্ডে জমা দিতে হবে।

দুই সপ্তাহে ওই তিন বাদীর বিরুদ্ধে ১০ মামলা হলেও আগামী সপ্তাহে আরও ২৪ মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী জাফরুল হাসান।