সাতক্ষীরায় স্যাটেলাইট যন্ত্রযুক্ত কচ্ছপ উদ্ধার

Print Friendly

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা থেকে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারযুক্ত একটি কচ্ছপ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার পাখিমারা বিলের জোয়ারাধারে (টিআরএম) মাছ ধরার সময় দোহার গ্রামের শেখ ওহাব উদ্দিন কচ্ছপটি পান। পরে তিনি শ্রীমন্তকাটি নতুন বাজার মাছের আড়তে কচ্ছপটি জীবিত অবস্থায় বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ কচ্ছপটিকে উদ্ধার করে তালা থানায় নিয়ে যায়। কচ্ছপটি সেখানেই রক্ষিত আছে।
শ্রীমন্তকাটি নতুন বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন ও কাইয়ুম শেখ বলেন, কচ্ছপটির পিঠে অ্যান্টেনার মতো একটি যন্ত্রাংশ দেখে কেউ তা কিনতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে স্থানীয়দের পরামর্শে ওহাব উদ্দিন কচ্ছপটি বাড়ি নিয়ে যান। এ সময় অনেক মানুষ কচ্ছপটি দেখতে ভিড় করে। খবর পেয়ে তালা উপজেলার খেশরা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদ হাওলাদার কচ্ছপটি উদ্ধার করে তালা থানায় পাঠিয়ে দেন। কচ্ছপটির পিঠে লাগানো অ্যান্টেনায় লেখা রয়েছে আডি-১৬৫৩৩৭-চ ০২৭৯১, প্রজেক্ট-বাটাগুর বাসকা, ভিয়েনা-জু, বাংলাদেশ-২০১৬, স্যারট্রাক (PROJECT-BATAGURBASKA, VIENNA-ZOO, BANGLADESH-2016, SIRTRACK)।

শেখ ওহাব উদ্দিন বলেন, আজ সকালে পাখিমারা বিলের জোয়ারাধার এলাকায় সড়কের পাশে কচ্ছপটি দেখে বাড়ি নিয়ে যান। পরে তা বিক্রির জন্য এলাকার নতুন বাজার মাছের আড়তে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয়রা তাঁকে জানান, এটি কোনো পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত কচ্ছপ। তাই তিনি কচ্ছপটি বিক্রি করে আবার বাড়ি নিয়ে যান। পরে পুলিশ কচ্ছপটি নিয়ে যায়।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সাইদুল ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের টারটেল সারভাইভাল অ্যালায়েন্স, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা জু এবং প্রকৃতি জীবন ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্রে কুমির ও হরিণের পাশাপাশি কচ্ছপ প্রজননকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে মূলত বিপন্ন বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ নিয়ে গবেষণা চলছে। এর অংশ হিসেবে বাটাগুর বাসকার স্বভাব, খাদ্যাভ্যাস, বিচরণক্ষেত্র ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে দুটি কচ্ছপের পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার সিস্টেম স্থাপন করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ছেড়ে দেওয়া হয়। সম্প্রতি একটি কচ্ছপের কোনো সিগন্যাল পাওয়া যাচ্ছিল না। অন্যটি সাগর ও সুন্দরবন ঘুরে ছবি পাঠাচ্ছে। দ্রুত কচ্ছপটির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কচ্ছপটি সুন্দরবন থেকে কীভাবে ৫০ কিলোমিটার দুরে চলে গেল তা বোঝা যাচ্ছে না।