রেকর্ড গড়ে শেষ আটে বার্সা

Print Friendly

অলৌকিক, দুর্বার ও অবিস্মরণীয় এক রূপকথা জন্ম দিল মেসি-নেইমারের বার্সেলোনা। আর শুধু রুপকথাই নয়, ঘরের মাঠে পিএসজিকে হারিয়ে তৈরি করলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয়ের নতুন ইতিহাসও। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতিহাস গড়ে পিএসজিকে উড়িয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে লুইস এনরিকের দল।

প্রথম লেগে পিএসজির মাঠে ছিল ৪-০ গোলের হার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের ইতিহাসে প্রথম লেগের ৪ গোলের ঘাটতি পুষিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠার নজির ছিল না। বুধবার রাতে ক্যাম্প ন্যুতে স্বাগতিকরা অসাধ্য সাধন করল ৬-১ গোলের অসাধারণ এক জয়ে। ২ লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের ব্যবধানে শেষ আটে লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধে পিএসজিকে ২ গোলে পেছনে ফেলে দারুণ সম্ভাবনা জাগায় বার্সা। দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই ব্যবধান তিনগুণ করেন লিওনেল মেসি। কিন্তু হঠাৎ খেঁই হারায় তারা। ফরাসি ক্লাবটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ে গোল করে বসে। এ গোলটি হওয়ার পরই বার্সার জন্য পাহাড় সমান দায়িত্ব দাঁড়ায়। নেইমারের সৌজন্যে সেই পাহাড় টপকে যায় ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

মাত্র ৩ মিনিটে লুই সুয়ারেসের গোলে এগিয়ে যায় বার্সা। বিরতিতে যাওয়া পাঁচ মিনিট আগে আন্দ্রে ইনিয়েস্তা ও রাফিনহার একটি আক্রমণ বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন পিএসজির কুরজাওয়া। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই ব্যবধান ৩-০ করে বার্সা। নেইমার বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। ৫০ মিনিটের ওই পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথায় বাঁদিক দিয়ে জালে পাঠান লিওনেল মেসি। এতে চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ পেনাল্টি গোলে রিয়াল মাদ্রিদের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে ভাগ বসান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। ১১তম পেনাল্টি গোল করেন তিনি।
৫০ মিনিটের মধ্যে তিন গোলে এগিয়ে থেকে ভালোভাবে ম্যাচে ফেরার আভাস দেয় বার্সা। কিন্তু তাদের হতাশ করে ৬২ মিনিটে গোল শোধ করেন পিএসজির তারকা এডিনসন কাভানি। ওই অ্যাওয়ে গোলে স্বপ্নভঙ্গ হতে বসেছিল বার্সার। তখন তাদের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬ গোলের, যেটা অসম্ভবই মনে হচ্ছিল। কারণ ৮৮ মিনিটেও স্কোরশিট ছিল ৩-১ গোলের। নেইমার সেটা বদলে দিলেন অবিশ্বাস্যভাবে। ব্রাজিলিয়ান তারকার দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক বেঁকে গিয়ে পিএসজির জালে ঢোকে। গোলরক্ষক ট্র্যাপ নড়াচড়ারও সুযোগ পাননি। এর পর ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে সুয়ারেস পেনাল্টি আদায় করেন পিএসজির ডি-বক্সে।
নেইমার ৫-১ গোল করলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিশ্চিত হয়। কিন্তু বার্সার নিয়তি চূড়ান্ত হয় নির্ধারিত সময়ে। ৯৫ মিনিটে নেইমারের বানিয়ে দেয়া বলে গোলমুখের সামনে থাকা সার্জিও রবার্তো পা লাগান। পুরো মৌসুমে একটিও গোল না পাওয়া রবার্তোর ওই শটটি সহজেই লক্ষ্যভেদ হয়। একই সঙ্গে রচিত হয় বার্সার অদম্য ইতিহাস, টিকে থাকল ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন।
শেষ ষোলোর অন্য ম্যাচে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বেনফিকাকে। পর্তুগিজদের মাঠে প্রথম লেগে ১-০ গোলে হেরে এসেছিল ডর্টমুন্ড। দুই লেগে ৪-১ গোলের অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল জার্মান জায়ান্টরা।