কুনিও হোশি হত্যা : ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

Print Friendly

জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে হত্যার দায়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি দল জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ৫ জঙ্গির ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার রংপুরের বিশেষ জজ নরেশচন্দ্র সরকার চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। মামলার ১ আসামিকে খালাস দিয়েছেন তিনি।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রায়ে জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী (৩৩), ওই জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ইছাহাক আলী (৩৪), লিটন মিয়া ওরফে রফিক (৩২), সাখাওয়াত হোসেন (৩০) এবং পলাতক আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লবর (২৪)।

হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় আরেক আসামি আবু সাঈদকে (২৮) বিচারক খালাস দিয়েছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, দেশকে অস্থিতশীল করার জন্য এবং অর্থনীতিকে পঙ্গু করার লক্ষ্য নিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে ৮ আসামির নাম থাকলেও তাদের ২ জন আগেই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। বাকি ৬ আসামির মধ্যে ৫ জন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে আদালতের সবগুলো ফটকেই বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। আইনজীবী ও সংবাদকর্মী ছাড়া অন্য কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি না তারা।

২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কাচু আলুটারি গ্রামে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি সে এলাকায় গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে উন্নত মানের ঘাসের চাষ করতেন।

ঘটনার দিনই কাউনিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার বর্তমান ওসি আবদুল কাদের জিলানী গত ৩ জুলাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ৮ সদস্যের বিরুদ্ধে রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৫ নভেম্বর সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

অভিযোগপত্রে নাম থাকা ২ জেএমবি সদস্য ঢাকা ও রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ায় ৬ জনের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া চলে। তাদের মধ্যে ৫ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। আর একজন পলাতক।

সরকারপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী বিশেষ পিপি রথীশ চন্দ্র ভৌমিক জানান, মামলায় ৬০ কর্মদিবসে ৫৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সেই সঙ্গে আসামিদের পক্ষে একজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যও নেয়া হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়।