ব্রহ্মপুত্রে ব্যারেজ নির্মাণ করবে সরকার

Print Friendly

ব্রহ্মপুত্র নদ দেশের অন্যতম প্রধান জলাধার। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এই নদের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু সম্প্রতি প্রাণ হারিয়েছে নদটি। এই অবস্থায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানির উপর নির্ভরশীল নদীগুলোর প্রাণ ফেরাতে এর ভাটিতে একটি ব্যারেজ নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এই ব্যারেজ নির্মাণ করা হলে এর মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমের পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে তার নিয়ন্ত্রিত প্রবাহের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সারাবছর পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যাবে। এতে ব্রহ্মপুত্র ছাড়াও বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর নাব্যতা ফিরে পাবে এবং নদীগুলোর দূষণ কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যারেজ নির্মাণের উপযুক্ত স্থান ও সম্ভাব্য বিষয়গুলো নির্ধারণে একটি সমীক্ষা প্রকল্পও নেয়া হয়েছে। ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সমীক্ষায় আগামী ৪ বছরের মধ্যে ব্যারেজ নির্মাণের বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করে মূল কাজ শুরু হবে। এ প্রকল্পটি আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অবগতির জন্য তোলা হচ্ছে।

‘ফিজিবিলিটি স্টাডি অ্যান্ড ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন অব ব্রহ্মপুত্র ব্যারেজ’ জামালপুরের বাহাদুরাবাদ বা এর আশপাশের উপযুক্ত স্থান অথবা মূল ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সংযোগ স্থলে ৫ কিলোমিটার ভাটিতে ব্রহ্মপুত্র ব্যারেজ নির্মাণের সঠিক স্থান বাছাই করা হবে। এতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রায় ৮০ জন পরামর্শক কাজ করবেন।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, শুষ্ক মৌসুমে দেশের মোট পানি প্রবাহের দুই-তৃতীয়াংশই ব্রহ্মপুত্র যোগান দেয়। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ এলকা এবং সমগ্র উত্তর-মধ্য ও উত্তর-পূর্ব এলাকা এর দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত। কিন্তু এ নদের পনি প্রবাহ কমে যাওয়ায় বর্তমানে দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সেচের অধিকাংশই অগভীর ও গভীর নলকূপের উপর নির্ভরশীল। এতে পনির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।

আবার ভারত সীমান্তবর্তী এদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ উচ্চ বরেন্দ্র এবং সমতল বরেন্দ্র এলকা হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ কম হচ্ছে। এ কারণে এসব এলকায় বর্তমানে নলকূপ স্থাপনও দূরহ হয়ে পড়ছে। এদিকে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী ও নবাবগঞ্জ এলাকার অগভীর পানির স্তরে আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এ অবস্থার সমাধানে আশপাশের নদীগুলোর পানি প্রবাহের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির প্রাপ্যতা বাড়বে। কিন্তু পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও ধলেশ্বরী নদী থেকে পানি প্রবাহ ঢাকার চারপাশের নৌপথে নৌযান চলাচলের জন্য অপর্যাপ্ত। এজন্য বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি প্রবাহও বাড়ানো প্রয়োজন। এর ফলে নদীগুলোর দূষণও কমে যাবে। এজন্য ব্রহ্মপুত্র ব্যারেজ নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

ব্যারেজ নির্মাণ হলে ব্রহ্মপুত্র ও এর শাখা এবং এর উপর নির্ভরশীল নদীগুলোর পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা যাবে। শুস্ক মৌসুমে খরা উপদ্রুত এলকায় পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাবে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশ, কৃষি, বাণিজ্য এবং শিল্পের প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে নদীগুলোর নাব্যতা বাড়ার ফলে নৌ-চলাচল বৃদ্ধি পাবে, পরিবহন খরচ কমবে। এসব নদীতে মাছের প্রজনন বাড়বে, যা মাছের বাড়তি উৎপাদন নিশ্চিত করবে।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্পের আওতায়, সামাজিক, পরিবেশ, অথনৈতিক, হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল বিষয় যাচাই করে দেখা হবে। তাছাড়া সড়ক ও রেলপশ সম্বলিত ব্যারাজের নকশা এবং প্রধান প্রধান সেচ ও পানি নিষ্কাশন খালের নকশা এবং পানি, বিদ্যুৎ অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় নকশাসহ ব্যারেজ পরিচালনার নির্দেশিকা প্রণয়ন করা ববে। সমীক্ষা প্রকল্পটি বাস্তবায়ণ করবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা।