বাস্তবায়িত হচ্ছে ৬ কোম্পানির উৎপাদন পরিকল্পনা

Print Friendly

চলতি বছরে নতুন উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৬ কোম্পানি। আর এই নতুন উৎপাদনের মাধ্যমে কোম্পানির আয় আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কোম্পানিগুলো এর কার্যকারিতা শুরু করেছে। কোম্পানিগুলো হলো- কাশেম ড্রাইসেলস, আফতাব অটোমোবাইলস, আজিজ পাইপস, জিপিএইচ ইস্পাত, রংপুর ফাউন্ড্রি এবং ন্যাশনাল টি লিমিটেড। কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কাশেম ড্রাইসেলসের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদির দুটি পরিকল্পনা রয়েছে। স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা- কোম্পানিটি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ইউনিট-৩ এ নতুন অটোমেটিক হাই পেলিসোর স্থাপন করবে। কোম্পানিটি এয়ার ফ্রেশনেস, ডিডোরেন্ট স্প্রে, হেয়ার স্প্রে, সেভিং ফোম ইত্যাদি উৎপাদনের জন্য একটি ক্যান ভর্তি লাইন স্থাপনে হাই চাপ ক্যান ব্যবহার করবে। আর এ প্রজেক্টগুলো চলতি বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে। এছাড়া কোম্পানিটি ছোট ফ্ল্যাশ লাইট উৎপাদন করতে ইউএম ৪ ব্যাটারীস স্থাপন করবে। ইউএম-১ ভিনিয়েল জ্যাকেট ব্যাটারীর উৎপাদন করতে নতুন প্রডাক্টশন লাইন স্থাপন করবে।

দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা– কোম্পনিটি অ্যালুমিনিয়াম ক্যান উৎপাদন করবে। এছাড়াও মেটাল প্রিন্টিং খালি চত্বরে একটি নমনীয় মুদ্রণ ও প্যাকেজিং ইউনিট স্থাপনের এবং ক্যান উৎপাদন করবে (কিউডিএল ইউনিট-৩)।

এ বিষয়ে কোম্পানির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানায়, আমরা কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনে কোম্পানির পরিকল্পনা সম্পর্কে যেভাবে বলেছি, সেভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। কোম্পনির কোন পরিকল্পনা সম্প্রসারণ হলেই তা আমরা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও স্টক একচেঞ্জেকে জানিয়ে দিবে।

আফতাব অটোমোবাইলস: চলতি বছরে কোম্পানির এসেম্বলিং ইউনিট ৫৫০ ইউনিট নন-এসি হিনো ডিজেল বাস চ্যাসিস তৈরী করবে। এছাড়া বাসের বডি বিল্ডিং ইউনিট অর্থাৎ ২০০ ইউনিটের নন-এসি এবং এসি বাসের (মডেল AK1JMKA) হিনো বাসের বডি তৈরী করবে।

কোম্পানিটি নতুন মডেল RN8J (CBU) এসি হিনো ডিজেল বাস ৫০ ইউনিট বিক্রয় করবে। তাছড়া মার্কেট চাহিদা অনুযায়ী মাইনদা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল তৈরী করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি।

আজিজ পাইপস: কোম্পানিটি ব্যাংকের ঋণ পুন:তফসিলকরণ ও পুন:তফসিলকৃত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে চলতি মূলধনের ব্যবস্থা করবে। কোম্পানির উৎপাদন কাজে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পুরাতন যন্ত্রপাতি বিএমআরই এর ব্যবস্থা করবে। নিরবিছিন্ন উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করে সর্বোত্তম উৎপাদন প্রক্রিয়া আরো জোরদার ও বিক্রয় বৃদ্ধি করবে আজিজ পাইপস। এছাড়া কোম্পানিটি কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসন করে নিজস্ব উদ্যোগে আমদানির ব্যবস্থা করবে। কোম্পানিটি আশা করছে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কোম্পানির উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রম বৃদ্ধি করে লাভজনক সাফল্যের ধারায় আজিজ পাইপসকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

জিপিএইচ ইস্পাত: সরকার পদ্মা সেতু, কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দর, কর্ণফুলী টানেল ও মেট্রোরেল প্রকল্পের মতো বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতেও একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে যার ফলে উচ্চ মান সম্পন্ন এমএস রড এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই মার্কেট শেয়ার বৃদ্ধি এবং নির্মান খাতে উচ্চ মান সম্পন্ন এমএস রড এর আসন্ন চাহিদা পূরণের জন্য উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে জিপিএইচ ইস্পাত যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ কোম্পানির নতুন উৎপাদন প্লান্টকে একটি সর্বাধুনিক উৎপাদন সুবিধা সম্বলিত ইন্টিগ্রেটেড স্টীল প্ল্যান্ট হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

রংপুর ফাউন্ড্রি: কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই বছর আগে কারখানা প্রাঙ্গনের মধ্যে ক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণ করেছে। বর্তমানে এটি উপযুক্ত হয়েছে যার ফলে উৎপাদন এবং বিক্রয় বাড়াবে। গ্রাহকের পছন্দ বিবেচনা করে ব্যবসা স্থানীয় এবং বৈশ্বিকভাবে সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অপারেশন ইউনিট এ ব্যাপারে কাজ করছে এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহ বিশেষণ করছে। গবেষণা এবং উন্নয়ন দল কঠোর পরিশ্রম করছে এবং আগামী দিনগুলোতে কোম্পানির পোর্টফোলিওতে নতুন নতুন পণ্যে যোগ হবে। এছাড়া রপ্তানি থেকে অথিক মুনাফা লাভের জন্য নতুন নতুন রপ্তানি এলাকা খোঁজচ্ছেন কোম্পানিটি।

ন্যাশনাল টি: কোম্পানির বাগানে ১৭৫.৮১ হেক্টর জমির অতি পুরাতন ও কম উৎপাদনশীল চা গাছ উৎপাদনপূর্বক পুন:রোপণ করবেন। এছাড়া ২৪.০০ হেক্টর জমির ব্লক ইনফিলিং এবং ৮০.১৯ হেক্টর জমিতে চা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তাছাড়া কোম্পানিটি ২ লাখ ৫৩ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান বৃক্ষের চারা রোপণের পরিকল্পনাও করছেন।