সাগর-রুনি হত্যার পাঁচ বছর: খুনীরা কি কোনদিন ধরা পড়বে?

Print Friendly

বাংলাদেশে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পাঁচ বছরেও তদন্তে অগ্রগতি না থাকায় তাদের পরিবারগুলো হতাশা প্রকাশ করেছে। এই দু’টি পরিবারে এখন বিচার পাওয়া না পাওয়ার প্রশ্নেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব দাবি করছে, তাদের তদন্তে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে।
কিন্তু আদালতের কাছে এপর্যন্ত ৪৬ বার সময় নেয়ার পরও র‍্যাব তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি এই সাংবাদিক দম্পতিকে ঢাকায় পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় তাদের বাসায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ২০১২সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি। ঘটনার সময় ঐ বাসায় থাকা তাদের একমাত্র শিশু সন্তান মাহি সরওয়ার মেঘ বেঁচে যায়।
হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচ বছরে তদন্তে অগ্রগতি নেই।এমন পরিস্থিতিতে সান্ত্বনা পাওয়ার পথও খুঁজে পাচ্ছে না সাংবাদিক দম্পতির বিপর্যস্ত পরিবার দু’টো। মেহেরুন রুনির ভাই নওশের রোমান বলছিলেন, তাদের মাঝে একদিকে রয়েছে শূন্যতা, অন্যদিকে হতাশা তৈরি হচ্ছে।
‘সাগর-রুনি’র শিশু সন্তান মেঘ বড় হচ্ছে। যখন সে বুঝতে শিখবে, নির্মমভাবে বাবা-মা হারানোর ঘটনা তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব কতটা ফেলবে, সেটা নিয়েই আমরা পরিবারের সদস্যরা এখন শঙ্কিত।”
পশ্চিম রাজাবাজারে মেহেরুন রুনির মায়ের বাসায় যখন নওশের রোমানের সাথে কথা হচ্ছিল, সেখানেই মাহি সরওয়ার মেঘ ঘুর ঘুর করছিল।এখনও তাঁর সেভাবে কিছু বোঝার সময় হয়নি।

ঘটনার সময় মেঘ এর বয়স ছিল সাড়ে পাঁচ। এখন সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে।হত্যার বিচার না হলে মেঘ বড় হলে, তাকে কি জবাব দেবেন, সেটি বড় চিন্তার বিষয় তাঁর দাদী-নানীর কাছে।
মেঘের দাদী অর্থাৎ সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির বলছিলেন,তদন্ত নিয়ে তারা অন্ধকারেই আছেন। নিশ্চয়ই কোথাও কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে।আর সেকারণে তদন্ত এগুচ্ছে না।”
পাঁচ বছর আগে হত্যাকাণ্ডের পর পরই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করার কথা বলেছিলেন।
কিন্তু ঘণ্টা,দিন,মাস,বছর অনেক সময় পার হয়ে গেছে।নওশের রোমান বলছিলেন, পাঁচ বছরেও তদন্তকারীরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না।
র‍্যাবকে প্রশ্ন করলে এককই জবাব পাওয়া যায় যে, তারা দেখছে, তদন্ত করছে।”
তদন্তে ডিবি পুলিশ ব্যর্থ হওয়ার কথা স্বীকার করলে হাইকোর্টের নির্দেশে র‍্যাব তদন্তের দায়িত্ব পায়। র‍্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা কয়েকবার পরিবর্তন হয়েছে।
এখন র‍্যাবের একজন সহকারী পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ তদন্তের মুল দায়িত্বে।তিনি কিছু পয়েন্টে অগ্রগতি দাবি করছেন।
তিনি বলছিলেন, “বিভিন্ন আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে।গ্রিল কাটা এবং বিভিন্ন চোর ডাকাত, এ রকম সন্দেহভাজন ১৩০জনের মতো ব্যক্তিকে সন্দেহ করে তদন্ত করছি।ঘটনার সময় হারানো ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোন ব্যাপারেও র‍্যাব বিটিআরসির সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।এগুলো কেউ চালু করলেই সন্ধান পাওয়া যাবে।বিভিন্ন বিষয়ই আমরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছি”।
তবে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা গেছে কিনা, বা কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হতে পারে, এতবছর পরও এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর মিলছে না।