ওবামাকে টুইন টাওয়ার হামলার মূল পরিকল্পনাকারীর চিঠি

Print Friendly

বিশ্বব্যাপী আলোচিত ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর (৯/১১) নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলা ও হতাহতের ঘটনাকে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির ফল বলে দাবি করেছেন হামলার আত্মস্বীকৃত প্রধান পরিকল্পনাকারী (মাস্টারমাইন্ড) খালিদ শেখ মোহাম্মদ। সদ্যসাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিষয়ক অ্যাটর্নি ডেভিড নেভিন এ তথ্য জানান।

ডেভিড জানান, ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্দেশে চিঠিটি লেখা শুরু করেন খালিদ। সেসময় তিনি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালিত গুয়ান্তানামো বে কারাগারে বন্দি ছিলেন। যদিও চিঠি ইস্যুর তারিখ ২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি লেখা রয়েছে। তবে এটি দুই বছর পরে ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র কয়েকদিন আগে ওবামার হাতে পৌঁছায়। হোয়াইট হাইস কিংবা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে চিঠিটির কপি প্রকাশ করা হয়নি।

১৮ পৃষ্ঠার দীর্ঘ চিঠির শুরুতে ওবামাকে ‘নিপীড়ক ও আগ্রাসী স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রেপ্রধান সর্প’ বলে উল্লেখ করেছেন খালিদ। তিনি লিখেছেন, ‘এ হামলা আমাদের হাত ধরে ঘটেনি। আমরা ৯/১১ এ শুধু মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলাম। এর প্রেক্ষাপট মার্কিন স্বৈরশাসকরা অনেক আগেই তৈরি করেছিলেন।’

ঘটনার দিন বিমান ছিনতাই করে নিউইয়র্কের সুরম্য বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র, প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন ও পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে হামলা চালানো হয়। এদিন ‘আল্লাহ হামলাকারীদের সাহায্য করেছেন’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, ‘পুঁজিবাদী অর্থনীতির কেন্দ্র ধ্বংস এবং গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার বিষয়ে আপনাদের দীর্ঘদিনের ভাঁওতাবাজি মানুষের সামনে তুলে ধরতে সেদিন আল্লাহ আমাদের সহায়তা করেছেন।’

চিঠিতে মার্কিন প্রশাসনকে ‘বর্বর ও অসভ্য গণহত্যাকারী’ বলে উল্লেখ করেছেন খালিদ। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে পারমাণবিক বোমা হামলা, ফিলিস্তিনি দখলদারিত্বে ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আপনাদের হাত এখনো রক্তে রঞ্জিত। আপনারা ফিলিস্তিনের গাজায় আমাদের ভাই-বোন ও সন্তানদের হত্যা করেছেন।’

তিনি লেখেন, ‘আমি হাসিমুখেই মৃত্যুকে মেনে নেব। আল্লাহ, নবী, ওসামা বিন লাদেন এবং বিশ্বব্যাপী আমার যেসব বন্ধু অন্যায়ের শিকার হয়ে মারা গেছেন তাদের সঙ্গে দেখা হবে, এটা ভেবেই ভালো লাগছে। যদি আপনাদের আদালত আমাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়, তবে বাকি জীবনটা কারাগারের নির্জন সেলে আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়ে দেব।