মানব সেতুর ঘটনায় বরখাস্ত হচ্ছেন একাধিক শিক্ষক

Print Friendly

ছাত্রদের পিঠে চড়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার অপরাধে বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন একাধিক শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধি। এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমন সুপারিশ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করারও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে তদন্ত কমিটির সূত্রে এসব জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বুধবার কমিটির প্রধান এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, ঘটনা প্রমাণিত। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়। আর জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে সুপারিশ করা হবে প্রতিবেদনে। আগামী রোববারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের জমা দেবেন বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল ওছমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ৩০ জানুয়ারি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন পাটওয়ারী প্রতীকী শিক্ষার্থীদের পিঠে চড়ে হেঁটে যান। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় ওঠার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরীর সমন্বয়ে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটিতে অপরজন হচ্ছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) উপ-পরিচালক একেএম মোস্তফা কামাল। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন তিন কার্যদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে বলা হয়।

চাঁদপুরের ঘটনার রেশ না কাটতে না কাটতেই একই ঘটনা ঘটে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুলের কোমলমতি শিশুছাত্রদের কাঁধে চড়ে হাঁটেন ওই স্কুলের জমিদাতা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দিলদার হোসেন ওরফে প্রিন্স। এ ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই ঘটনায়ও চাঁদপুরের তদন্তকারীদের দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়া দেশের অন্য কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়।

এ প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, সরেজমিনে চাঁদপুরের স্কুল পরিদর্শন করেছি। জামালপুরের ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের দ্বারা তদন্ত করা হয়েছে। অন্য কোথাও এ ধরনের ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

তদন্ত কমিটির অপর সদস্য মোস্তফা কামাল জানান, ঘটনা পত্রপত্রিকায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। সরেজমিন গিয়ে এর সতত্য পাওয়া গেছে। এখন শাস্তির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখবে। বিভাগীয় ব্যবস্থা, আইন-বিধি অনুযায়ী শাস্তির বিষয়টি নির্ধারণ করবে মন্ত্রণালয়। তবে যেই ঘটনা ঘটেছে- তাতে শিশু নির্যাতন আইনেও শাস্তি হতে পারে।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যেসব শিক্ষার্থীদের দ্বারা সেতু করা হয়েছে তারা সবাই শিশু। এটা শিশু নির্যাতনের মতো।

জানা গেছে, নূর হোসেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত চিঠিতে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে।

এছাড়া গত ১ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় থানায় মামলা করেন আবদুল কাদের নামে এক অভিভাবক। মামলায় নূর হোসেন ও প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়।