চিরবিদায় সাঈদ জাফরি

Print Friendly

চলে গেলেন ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা সাঈদ জাফরি। গত ১৫ নভেম্বর তার ভাইঝি শাহিন আগারওয়াল ফেসবুকে এ দুঃসংবাদ দিয়েছেন। ৮৬ বছর বয়সে থমকে গেলো গুণী এই শিল্পীর জীবনঘড়ি। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো একটি সোনালি অধ্যায়। লন্ডনে নিজের বাড়িতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

জাফরির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদি বলেছেন, ‘সাঈদ জাফরি ছিলেন বৈচিত্রময় অভিনেতা। তাকে দর্শকরা সবসময়ই স্মরণ করবে। তার চলে যাওয়ায় আমি গভীরভাবে শোকাহত।’ তার প্রয়াণের খবরে বলিউডে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। শোক জানিয়ে টুইটারে লিখেছেন অভিনেতা ঋষি কাপুর, কবির বেদি, অলোক নাথ, নির্মাতা মহেশ ভাট, শেখর কাপুর, মধুর ভান্ডারকর, অনুভব সিনহা, গায়ক দালের মেহেদি, শান, অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন, নিমরাত কৌর, মনীষা কৈরালা।
spe5
সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ ছবিতে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন সাঈদ জাফরি। এর পাশাপাশি ‘চশমে বুদ্দুর’ ছবির জন্যও ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হন তিনি। বলিউডে তার অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকায় আরও উল্লেখযোগ্য- ‘মাসুম’, ‘হেনা’, ‘রাম লক্ষ্মণ’, ‘খুন ভারি মাঙ’, ‘নসিব’, ‘দিল’, ‘কিষেণ কানহাইয়া’, ‘ঘর হো তো অ্যায়সা’, ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’, ‘দিওয়ানা মস্তানা’, ‘মোহব্বত’, ‘জব পেয়ার কিসিসে হোতা হ্যায়’, ‘আন্টি নম্বর ওয়ান’, ‘আলবেলা’।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দারুণ সমাদৃত হয়েছিলেন সাঈদ জাফরি। ‘গান্ধী’ (১৯৮২), ‘অ্যা ম্যান হু ওয়ান্টেড টু কিং’ (১৯৭৫), ‘অ্যা প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’র (১৯৮৪) মতো আন্তর্জাতিক ছবির পাশাপাশি ‘তন্দুরি নাইটস’, ‘দ্য ফার প্যাভিলিয়নস’, ‘গ্যাংস্টারস’, ‘করোনেশন স্ট্রিট’ এবং ‘দ্য জুয়েল ইন দ্য ক্রাউন’ টিভি সিরিজগুলোতে দেখা গেছে তাকে। ১৯৮৫ সালে ‘মাই বিউটিফুল লন্ড্রিট’-এ অভিনয়ের বাফটায় মনোনয়ন পান তিনি। জেমস বন্ড তারকা শন কনারি ও পিয়ার্স ব্রসন্যান, ড্যানিয়েল ডে-লুইস এবং মাইকেল কেইনের মতো বিখ্যাত অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেছিলেন সাঈদ।

১৯২৯ সালে পাঞ্জাবের মালেরকোটলায় সাঈদ জাফরির জন্ম। তিনি পড়াশোনা করেন আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি, ওয়াইনবার্গ অ্যালেন স্কুল ও এলাহাবাদ ইউনিভার্সিটিতে। মঞ্চ থেকেই তার অভিনয় জীবন শুরু। নয়াদিল্লিতে তার নিজেরই নাট্যদল ছিলো। একসময় লন্ডনে রয়্যাল অ্যাকাডেমি ড্রামাটিক আর্টে (রাডা) চলে যান তিনি। প্রথম ভারতীয় হিসেবে ব্রডওয়ে প্রযোজনা ‘শেক্সপিয়র’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ঘুরেছেন। প্রথম ভারতীয় হয়েই অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার অর্থাৎ ওবিই সম্মান পান সাঈদ জাফরি। ১৯৯৫ সালে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয় তাকে।

অভিনেত্রী-লেখক মধুর জাফরিকে বিয়ে করে ঘর বেঁধেছিলেন সাঈদ জাফরি। তাদের ঘর আলো করেছে তিন সন্তান। এর মধ্যে কন্যা সাকিনা জাফরি জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ১৯৬৫ সালে মধুরের সঙ্গে সাঈদের বিচ্ছেদ হয়। ১৯৮০ সালে তিনি বিয়ে করেন কাস্টিং ডিরেক্টর জেনিফার সরেলকে। সাঈদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সারাক্ষণের সঙ্গী হয়ে পাশেই ছিলেন জেনিফার।