এসএম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী

Print Friendly

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার (১০ অক্টোবর)।

১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
SM-Sultan-50398
প্রিয় জন্মভূমি নড়াইলের কুড়িগ্রামে তাকে শায়িত করা হয়। তার বাবার নাম মেছের আলী। মা মাজু বিবি।

দিবসটি উপলক্ষে শনিবার নড়াইল জেলা প্রশাসন ও সুলতান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পীর মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, কোরআন খানি, মিলাদ, দোয়া অনুষ্ঠান, র‌্যালি, শিশুদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা।
1412864354
দারিদ্র্যের মধ্যেও ১৯২৮ সালে সুলতান নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে লেখাপড়া শুরু করেন। লেখাপড়ার অবসরে রাজমিস্ত্রি বাবাকে কাজে সহযোগিতা আর কাজের ফাঁকে ফাঁকে ছবি আঁকার হাতেখড়ি তার।

এ সময় সুলতানের আঁকা ছবি স্থানীয় জমিদারদের দৃষ্টি করে। নড়াইলের জমিদার ব্যারিস্টার ধীরেন রায়ের আমন্ত্রণে রাজনীতিক ও জমিদার শ্যামাপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায় ১৯৩৩ সালে ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে আসেন। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সুলতান শ্যামাপ্রাসাদের একটি পোট্রেট আঁকেন। সুলতানের আঁকা ছবি দেখে মুগ্ধ হন শ্যামাপ্রাসাদসহ অন্যরা। উৎসাহ পেয়ে ছবি আঁকায় আরও মনোযোগী হন সুলতান।
dsc_0019
এরপর লেখাপড়া ছেড়ে ১৯৩৮ সালে কলকাতায় গিয়ে ছবি আঁকা ও জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। সে সময় চিত্রসমালোচক শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সোহরাওয়ার্দীর সুপারিশে একাডেমিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ১৯৪১ সালে কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তির সুযোগ পান তিনি। ১৯৪৩ অথবা ৪৪ সালে কলকাতা আর্ট স্কুল ত্যাগ করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান সুলতান। কাশ্মীরের পাহাড়ে উপজাতীয়দের সঙ্গে কিছুদিন বসবাস করেন এবং তাদের জীবন-জীবিকা ভিত্তিক চিত্র আঁকেন। ১৯৪৫ মতান্তরে ৪৬ সালে ভারতের সিমলায় তার প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
kjkjkjk
১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের লাহোরে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতিমা জিন্নাহ সুলতানের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। ১৯৫০ সালে চিত্রশিল্পীদের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আমেরিকায় যান সুলতান। এরপর ইউরোপের বেশ কয়েকটি একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। পাবলো পিকাসো, সালভেদর দালি, পল ক্লিসহ খ্যাতিমান শিল্পীদের ছবির পাশে এশিয়ার একমাত্র শিল্পী হিসেবে এসএম সুলতানের ছবি বিভিন্ন প্রদর্শনীতে স্থান পায়।

১৯৫৩ সালে জন্মভূমি নড়াইলে ফিরে আসেন। শিশু-কিশোরদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি চারুকলা শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন তিনটি স্কুল। আবার জন্মভূমি (নড়াইল) ছেড়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে-ফিরেন। ১৯৮০ সালে সুলতান নড়াইলের কুড়িগ্রামে শিশুস্বর্গ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। ১৯৯২ সালে ৯ লাখ মতান্তরে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট ‘ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ’ নামে একটি দুই তলা নৌকা তৈরি করেন।

সুলতানের শিল্পকর্মের বিষয় ছিলো- কৃষক, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার, মাঠ, নদী, হাওর, বাঁওড়, জঙ্গল, সবুজ প্রান্তর তথা খেটে খাওয়া মানুষ।

পুরস্কার ও সম্মাননা: শান্তিপ্রিয় সুলতানের চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে ১৯৮২ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা লাভ করেন।

এছাড়া, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন।