নিজ গ্রামে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শেষকৃত্য সম্পন্ন

Print Friendly

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ এবং সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান (দাহ) সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আনোয়ারাপুর নিজ গ্রামে সম্পন্ন হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আনোয়ারাপুর নিজ গ্রামে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দাহ সম্পন্ন হয়। এর আগে তার মরদেহ দিরাই বাসভবনে নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদাস্বরূপ গার্ড অব অনার প্রদান করে পুলিশ। আনোয়ারাপুরের নিজ বাড়িতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নিজ হাতে রোপণ করা চন্দন গাছের কাঠ দিয়ে তার মরদেহ দাহ করা হয়। চৌদ্দ-পনের বছর আগে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নিজেই বাড়ির আঙ্গিনায় এই চন্দন গাছটি রোপণ করেছিলেন। যখনই তিনি দিরাইএর এই বাড়িতে আসতেন, তখন নিজের হাতেই গাছটির পরিচর্যা করতেন।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে।

শাল্লা উপজেলার বেলা ২টায় এবং বিকেল ৩টায় দিরাই উপজেলার নিজ গ্রামে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাখা হয়। দলমত নির্বিশেষে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ পুলিশ লাইন মাঠে তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানায়। বেলা একটায় সিলেট থেকে তার কফিন নিয়ে যাওয়া হয় সুনামগঞ্জ শহীদ মিনারে । সেখানে শত শত মানুষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে।

এরপর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদ, পৌরসভা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও মিসবাহউদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির ইমন ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

এদিকে সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সুরঞ্জিতের মরদেহ সর্বসাধারনের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। সেখানে অস্থায়ী মঞ্চে কফিন রাখা হলে সর্বস্তরের মানুষসহ রাজনৈতিক সহকর্মী, ভক্ত-অনুরাগি ফুলে ফুলে শেষবারের মতো তাদের প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানান। এখানে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শোকার্ত মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। পরে দুপুর ১২টায় তাঁর লাশবাহি গাড়ি গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।

চীফ হুইপ আসম ফিরোজ, সরকারি দলের হুইপ শাহাব উদ্দিন, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, পঙ্কজ দেবনাথ, মজিদ খান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবং বিএনপি নেতা আরিফুল হক শহীদ মিনারে এসে সুরঞ্জিত সেনের মরদেহে শ্রদ্ধা জানান।

সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের লাশবাহী হেলিকপ্টার সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নে্ওয়া হয়। ১০টা ৫৮ মিনিটে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স শহীদ মিনারে প্রবেশ করে।

গতকাল রবিবার ভোররাতে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। শনিবার রাত ৮টার দিকে তাকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেয়া হয়। তার আগে শুক্রবার তাকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আওয়ামী লীগের এ নেতার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া শোক প্রকাশ করেন।