প্যারিসে শুরু জলবায়ু সম্মেলন, বাংলাদেশ দাবী আদায়ে সচেষ্ট

Print Friendly

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শুরু জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন। গত ১৩ নভেম্বর প্যারিসে ভয়ংকর সন্ত্রাসী হামলার পর এ সম্মেলন ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে সবকিছু সামলে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই শুরু হচ্ছে এ সম্মেলন।

প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন জাতিসংঘের উদ্যোগে জলবায়ুবিষয়ক একটি সম্মেলন। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ঠেকাতে ১৯০টিরও বেশি দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে এ সম্মেলনে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মেলনকে ‘কোপ-২১’ বলা হয়ে থাকে।

spc1

রাষ্ট্রনায়কদের ভাষায়, প্যারিসের এ সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে ‘ধরিত্রীর ভবিষ্যৎ’। অংশগ্রহণকারী দেশ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনসহ ১৫০টির বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এতে যোগ দেন। প্রায় প্রত্যেক দেশের সরকারি প্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার-পারিবেশাধিকার কর্মীসহ ৪০ হাজার ব্যক্তি এখানে অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে তিন হাজার সাংবাদিক উপস্থিত।  সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ধরিত্রী এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্য একটি সর্বজনীন জলবায়ু চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যোগ না দিলেও সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উচ্চারিত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের দৃষ্টান্তকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি।

 

সম্মেলনের উদ্দেশ্য:  জাতিসংঘ চেষ্টা করছে এ সম্মেলনের মাধ্যমে সব দেশকে নিয়ে একটা কার্যকর চুক্তি করা। যাতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্প বিপ্লব-পূর্ব মাত্রা থেকে দুই ডিগ্রির মধ্যে থাকে। বিজ্ঞানীদের সতর্কতা অনুযায়ী, বৈশ্বিক তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি হলে পৃথিবীতে বিপর্যয় নেমে আসবে। অতি তাপদাহ, খরা ও বন্যায় বাসের অযোগ্য হবে ধরিত্রী। ইতোপূর্বের সম্মেলনগুলো: জলবায়ু পরিবর্তন রোধে জাতিসংঘের ইউএনএফসিসিসি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও শহরে প্রথমবারের মতো ধরিত্রী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর এর বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্যারিসের এ সম্মেলন ২১তম (কোপ-২১)।এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে কিয়োটো প্রটোকল স্বাক্ষরের পর পাঁচ বছর পরপর বিশ্বনেতারা একত্র হন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন হয়েছিল।

বান কি মুন বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বলেন, এই ধরিত্রী এবং ধরণীর ভবিষ্যত প্রজন্ম আপনাদের হাতে। এই ধরণীর ভবিষ্যত সম্পর্কে আপনাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনারাই পারেন প্যারিসে একটি অর্থবহ ও গতিশীল জলবায়ু চুক্তিতে উপনীত হতে।

প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের সভাপতি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট ফেবিয়াস তার উদ্বোধনী বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের দৃষ্টান্ত টেনে আনেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বড় বড় ৯টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো বাংলাদেশের এই দৃষ্টান্তকে অনুসরণ করতে পারে।