তারাকান্দি-যমুনা ব্রীজ রেলওয়ে লিংক প্রকল্পে শতকোটি টাকার অনিয়ম

Print Friendly

na4নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ রেলওয়ের তারাকন্দি-যমুনা ব্রীজ রেলওয়ে লিংক প্রকল্পে বক্স কালভার্ট ও ব্রীজ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক উন্নয়ন কাজের নামে ৯৭ কোটি ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৮৫২ টাকার অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে সংসদীয় কমিটি। ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর হতে ২০০৮-০৯ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে এই অর্থ লোপাট করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে এসব অভিযোগ তদন্ত করে সংসদীয় কমিটিতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছে।
কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য এ, কে, এম মাঈদুল ইসলাম, মো. আব্দুস শহীদ, মো. মোসলেম উদ্দিন, মো. আফছারুল আমীন, মইন উদ্দীন খান বাদল এবং রেবেকা মমিন অংশ নেন। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক, রেলওয়ে অডিট অধিদপ্তরের মহা পরিচালকসহ সংশি¬ষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের তারাকান্দি-যমুনা ব্রীজ রেলওয়ে লিংক প্রকল্পের ১৯৯৯-২০০০ হতে ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরের হিসাব সম্পর্কিত একটি অডিট প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বিশেষ এই অডিট প্রতিবেদনে এসব অনিয়ম দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে পিপিতে মাটি ভরাট কাজের নামে ৬ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার ৬৭৯ টাকা, গার্ডারসহ ব্রীজ নির্মাণের ৯ কোটি ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৮৪ টাকা, অতিরিক্ত আইটেমের ১ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭৪ টাকা, তারাকান্দি হতে যমুনা ব্রীজ পর্যন্ত রেলওয়ে লিংক প্রকল্পের ব্রীজ নির্মাণের ১ কোটি ৪০ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকা), মাটির কাজের ১ কোটি ২৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০৬ টাকা, মাটি ভরাটের পরিত্যক্ত কাজের ১ কোটি ৬১ হাজার ২৩৮ টাকা, মাটি ভরাট/টারফিং কাজের ৮৭ লাখ ২৫ হাজার ৪০৯ টাকা, ২ টি গার্ডার ক্রয়ে ৮০ লাখ ৩০ হাজার টাকা, তারাকান্দি হতে যমুনা ব্রীজ রেলওয়ে লিংক প্রকল্পের ৬১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮৫ টাকা, প্রকল্পের বক্স কালভার্ট নির্মাণের ৪১ লাখ ৬৯ হাজার ৭৫৪ টাকা এবং প্রকল্পের পিওয়ে মালামালের ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অনিয়ম হয়েছে।

এছাড়া তারাকান্দি হতে যমুনা ব্রীজ পর্যন্ত রেলওয়ে লিংক প্রকল্পের কালভার্ট নির্মাণের ২ কোটি ৮২ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮৮ টাকা, প্রকল্পের ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণের ২ কোটি ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং প্রকল্পের পূর্ত ও অন্যান্য নির্মাণের ৭৪ কোটি ২৭ লাখ ৭৩ হাজার ৩৫০ টাকার অনিয়ম হয়েছে। কমিটি অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপনের তাগিদ দিয়েছে।